Posts

সংকলন ৩১- একটি মেয়ের আত্মকাহিনী

লেখাঃ 'Abid Ahmed Chowdhury একটা চিঠি লিখতে বসেছি, চিঠিটা কার কাছে লিখতেছি ঠিক জানি না। প্রাপকের নামটা ফাঁকা রেখে দিলাম, যে'ই পড়বেন ধরে নিবেন আপনার উদ্দেশ্যে লিখেছি। আমি একটা মেয়ে, আর চিঠিটা আমার জীবন কাহিনী নিয়ে। চিঠিটা পড়ে অনুভুতীটা কেমন হয় সেটা বলার প্রয়োজন নেই, শুধু এখানে আমার দোষটা কোথায়একটু খোঁজে দিলে খুশি হব...আমার নাম রোকেয়া, না এটা ইতিহাসের কোন কালজয়ী নারীর নাম নয়। এটা প্রত্যন্ত কোন এক গ্রামের এক লাঞ্চিত, বঞ্চিত, হতভাগা মেয়ের নাম। ২০১১ সালে আমি এসএসসি পরীক্ষা দেই, ব্যাবসা শাখা থেকে, মোটামুটি ভালো একটা ফলাফল পাই, জিপিএ ৪.৮৩। বাবা ছিলেন একজন মুক্তিযুদ্ধা, এখনো বেঁচে আছেন। আর্থিক দিক দিয়ে না হলেও এলাকায় অনেক সম্মানী একজন মানুষ, বর্তমানে একটা আঞ্চলিক সমীতির সভাপতি। পরিবারে অন্যদের মধ্যে আমি, ভাইয়া-ভাবী, আর মা। আমার মা আমার জন্মের আগ থেকেই স্কুল শিক্ষিকা, স্থানীয় একটা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ান। ভাইয়াটা নৌ-বাহিনীতে চাকরি করে, বেশির ভাগ সময়টাই তার নৌ-ক্যাম্পে থাকে। আর ভাবীর সারাটা দিনই বাড়িতে কাটে। আমার জীবনটা অন্য আট-দশটা মেয়ের মত অনেক সাধারণ ছিল। হাসি-খুসিতে ভরপূর অনেক সুন্দ...

সংকলন ৩০ - মূহুর্ত - কায়েস রাইহান

-আচ্ছা আমি যদি মরে যাই তুমি কি আরেকটা বিয়ে করবে? চেয়ার থেকে উঠে পরে জানালার কাছে গিয়ে হু হু করে কেঁদে দেয় রিফাত। এই প্রথম ছেলেটাকে কাঁদতে দেখলো অনিতা। ছেলেটা অনেক কঠিন। অনিতার মনে পরে যায় তাদের ব্রেক আপের কথা। ঐ দিনও ছেলেটা একটুও কাঁদেনি। আজকেও ছেলেটা সাদা শার্ট পরে আছে। ওই দিনও সাদা শার্ট পরা ছিল। ছেলেটাকে সাদা শার্ট পরলে অনেক সুন্দর লাগে। কিন্তু ছেলেটা কখনোই বুঝতে চায় নি। সেদিন ছিল দুপুরবেলা। দুর থেকে ছেলেটাকে দেখা যাচ্ছিল -হাই রিফাত -প্রায় একচল্লিশ মিনিট লেইট করে আসছো। -সরি একটা কাজে আটকে গিয়েছিলাম -কি এমন কাজ যে এত দেরি -তোমাকে বলবো কেনো? এটা টপ সিক্রেট -আচ্ছা জানলাম না। হঠাৎ ডাকলে যে? -খুব ইম্পর্টেন্ট একটা জিনিশ আলোচনা করবো -কি? -আমি আর এই রিলেশন রাখবো নাহ। -ও আচ্ছা। আর কিছু? -আমি মজা করছি নাহ। আমি সিরিয়াস। -আচ্ছা। আমি জোর করছি না তোহ তোমাকে। -তোমার খারাপ লাগবে নাহ? -হুম লাগবে -থাকতে পারবে আমাকে ছাড়া? -পারবো।কিন্তু কষ্ট হবে -কতটুকু ভালোবাস আমাকে? -কি জানি -আমি চলে যাই ভালো লাগছে নাহ -আর কিছুক্ষণ থাকো। -কেনো -তোমাকে ফুচকা খাওয়াই। আর তো খাওয়াতে পারবো নাহ। ডুকরে কেঁদে দেয় অনিতা। একস...

সংকলন ২৯ - প্রকৃত বন্ধু - মুনীর আহমদ

#‎দৃশ্যপট_১‬ - কলেজে যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছিলো আবির। হটাৎ বন্ধু সোহেলের ফোন, - দোস্ত তুই কই?? - বাসায়। - আমি তো বিপদে পড়ছি! - কি হইছে?? - আমাকে বিনাকারণে পুলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। - বলিস কি! তুই কোথায় এখন?? - তিন রাস্তার মোড়ে!! - আচ্ছা, আমি আসছি। বন্ধুর জন্য কলেজ মিস দেয়া ব্যাপার না। তাই তিন রাস্তার মোড়ের দিকে রওনা দিলো আবির। ‪#‎দৃশ্যপট_২‬ - তিন রাস্তার মোড়ে গিয়ে আবির কিছু বুঝতে পারলো না। পুলিশের চিহ্ন মাত্র নেই। চায়ের দোকানে বসে সোহেল চা খাচ্ছে। - আরে দোস্ত আয়, বস। - কিরে তুই ফোনে কি বললি?? - আরে বেটা পরীক্ষা করলাম। ফোন দিলাম পাঁচ জনকে শুধুমাত্র তুই এলি আর কেউ আসে নি। - তার মানে পুরো ব্যাপার টা বানানো?? - হ্যাঁ রে দোস্ত, তুই আমার প্রকৃত বন্ধু! - আমি তোর প্রকৃত বন্ধু হতে পারি কিন্তু তুই আমার প্রকৃত বন্ধু না। - মানে?? - মানে হলো প্রকৃত বন্ধু কোনদিন বন্ধুত্বের পরীক্ষা নেয় না। তুই স্বার্থপর। বন্ধুত্বের মধ্যে কোন স্বার্থ নেই, নিস্বার্থ ভাবে যে সম্পর্ক থাকে তাকেই বলে বন্ধুত্ব, আমি চললাম। সোহেলকে অবাক করে দিয়ে হাটা ধরলো আবির। হটাৎ মনে পড়লো কলেজে আজ গুরুত্বপূর্ণ একটা ক্লাস আছে, এটি মনে করেই হাটা...

সংকলন ২৮ - 'জোকার' -মাহির আবরার

একটু পরই সন্ধ্যা নামবে। এ সময়টায় আবেগ কেন জানি একটু বেশিই কাজ করে। পৃথিবীটা এসময় অসাধারন এক রূপে সাজে। এ রূপ কেবলই দেখবার; উপলদ্ধি করবার। রুদ্র প্রায়ই এ সময়টা বারান্দায় কাটিয়ে দেয়। আজও এর ব্যাতিক্রম হচ্ছে না। গান শুনছে ও। ডান কানে একটা ইয়ারপিস গুঁজে রেখেছে। ওর সান্ধ্যকালীন প্লেলিস্ট টা একটু অন্য ভাবে সাজানো। বেশির ভাগই রবীন্দ্র সংগীত। বাবা মার একমাত্র সন্তান রুদ্র। স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছে। দারুন আড্ডাবাজ প্রানবন্ত একটা ছেলে। একেবারে আড্ডার প্রাণ। হাসি-তামাশায় আড্ডা মাতিয়ে রাখতে রুদ্রের জুড়ি মেলা ভার। রুদ্র গান শুনছে আর উঁকিঝুঁকি মেরে কিছু একটা দেখবার চেষ্টা করছে। ঘড়িতে সময় ৫ টা বেজে ৫০ মিনিট। রুদ্রের দৃষ্টি সামনের বিল্ডিং এর চতুর্থ তলার বাম পাশের ফ্ল্যাটের বারান্দায়। কিছুক্ষনের মধ্যেই সমবয়সী একটা মেয়েকে দেখা যায় ওপাশটায়। বারান্দায় এসেই হাতের হালকা ইশারা। এর মানে হল ফেসবুকে ঢুকতে হবে। রুদ্র জানে মেয়েটা এটাই বলবে। হয়ত প্রায়ই বলে। তড়িঘড়ি করে লগইন করল রুদ্র। এরপর কিছুক্ষণ একান্ত কথোপকথন- রুদ্রঃ কেমন আছ? -ভাল। তুমি?? রুদ্রঃ হুমম। ভালই। আজ ভার্সিটি যাও নি? -না। ...

সংকলন ২৭ - বেলা শেষে তোমারই অপেক্ষায়- জাহিদ হাসান

যখন চৈত্র সংক্রান্তিতে এলেনা, ভাবলাম পহেলা বৈশাখে আসবে।আমার চারপাশ নানা আয়োজনে মুখরিত। পহেলা বৈশাখের সেই রঙিন সকালে আমিও প্রস্তুত কোন অপ্সরীকে বরণ করে নেয়ার জন্য।তোমার জন্য রমনার বটমুল থেকে শুরু করে চারুকলা কিংবা টিএসসি সবখানে বার বার হুমড়ি খেয়ে পড়েছি, আমার চোখের সামনে গোধুলীর শেষ আলো বিলিন হয়ে গেল কিন্তু তুমি এলেনা।যার জন্য দিবানিশি প্রতিক্ষার প্রহর গুনি তার প্রতি রাগ করা আমার সাজেনা। তুমি আসনি তার পরও আমি রাগ করিনি। মনে মনে ভেবেছি তুমি হয়তো কোন জরুরী কাজে বাধা পড়ে গেছ।আমার মন আমার সমস্ত চিন্তাচেতনা তোমাকে ঘিরে। চৈত্র সংক্রান্তিতে আসনি,পহেলা বৈশাখেও আসনি,জৈষ্ঠ্যের খররৌদ্রের মাঝেও হয়তো আসবেনা,কিন্তু তোমার পথ চেয়ে আমার দিনাতিপাত থামানোর আমার কোন ইচ্ছে নেই। যাক আরো দুটো বসন্ত,একটা চৈত্রসংক্রান্তি কিংবা কয়েকটা উৎসব মুখর পহেলা বৈশাখ, আমি আগের মতই অপেক্ষার ডালি সাজিয়ে বসে রবো তোমার জন্য।তুমি কি আসবে? তুমিতো জানো আমার ছোট্ট একটা বোন আছে। ওর নাম মিফরা।বোনই আমার বন্ধু।আমার এই অনাদিকালের অপেক্ষা দেখেও ও কখনো হাসেনি। বন্ধুর মত কাধে হাত রেখে বলেছে ভাইয়া দেখিস সে আসবে। আমি আমার বোনের কথা অবিশ্বাস...

সংকলন ২৬ - অভিমান - মুনীর আহমদ।

উৎসর্গ - " প্রিয় সালমা কে । " অফিসে দেরি করে পৌছানোর রেকর্ড নেই হাসান আহমেদের। স্বভাব মতই আজও সঠিক সময়ে অফিসে পৌঁছে গেছেন তিনি। কাজ শুরু করার আগেই হাসানের একমাত্র শ্যালক সেলিম আসলো তার সাথে দেখা করতে। মাসের শুরুর দিকে হাসানের শ্যালক আসে তার সাথে দেখা করতে। তবে মাঝেমধ্যে এক মাসে কয়েকবারও আসে। দেখা করতে আসার কারণ দুলাভাইয়ের কাছ থেকে টাকা নিয়ে যাওয়া। হাসানের কাছ থেকে টাকা নেয়া নিরাপদ। কারণ এই লোকটি টাকা দিতে কখনো অসম্মতি জানায় না আর কাউকে বলেও না। - দুলাভাই, কেমন আছেন? -- আছি ভালই। তুমি আছো কেমন? - জ্বী ভালই। -- চা দিতে বলি?? - না থাক। একটা প্রয়োজনে এসেছিলাম। -- কত লাগবে তোমার? - দুলাভাই, আপনি আমার প্রয়োজনটা কিভাবে বুঝে ফেলেন! বেশি না মাত্র ১ হাজার। হাসান মানিব্যাগ বের করতে করতে ভাবছিলো অনেকেই বলে শালা ছাড়া বিয়ে করবে। এর মর্ম এখন বুঝতে পারছে হাসান। শ্যালকরা দুলাভাইদের বানরের মত জালিয়ে যায়। - এই নাও টাকা। -- ধন্যবাদ ভাই। এখন গেলাম। (দুই) হাসান দুশ্চিন্তাতে পড়ে গেল। প্রতিদিন দুপুরে হাসান বাসায় ফোন দিয়ে তার স্ত্রী সালমার সাথে কথা বলে। আজকেও ফোন দিয়েছিলো। কিন্তু মোবাইল কেউ ধরেনি। ট...

সংকলন ২৫- তোমার হাসিতে আমার সুখ -মহাকাব্য'র কাব্যিক

রোজ সকালে ছেলেটিকে রাস্তার মোড়ে দেখা যেতো। ছেলেটি কিসের জন্য দাঁড়ায় হয়তো খুব কম মানুষ তা জানে।নীল-সাদা ড্রেস পরা মেয়েটি প্রতিদিন ঔ রাস্তা ধরে কলেজে যায়।আর ছেলেটি মেয়েটিকে দেখার জন্য দাঁড়িয়ে থাকে। ছেলেটির নাম সাব্বির। মেয়েটির নাম অর্পা। তাদের কলেজ ভিন্ন।ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে দুইজনই পড়াশুনা করে।অর্পা ওর কলেজের ফার্স্ট গার্ল,আর, সাব্বির ওর কলেজের ফার্স্ট বয়।দুই কলেজের ভিতর ভীষন কম্পিটিশন।একজন অপরজন কে সবসময় হারানো চেষ্টা করতো। সাব্বিরে আর অর্পা পাশাপাশি এলাকায় থাকে। তাদের মধ্যে সবসময় যুদ্ধ চলতো।রাত একটু গভীর।চাঁদ টা মেঘের ছায়ায় ঢাকা পরেছে।চাঁদ মামা নিভু আলো দিচ্ছে।। অর্পা টেবিলে বসে পড়ছে,কাল পরীক্ষা।সাব্বির আর কয়েকজন বন্ধু মিলে অর্পাকে ভয় দেখাবে এই প্লান করে। রাত তিনটা বেজে একমিনিট। পরিবেশে একবারে নিরব।হঠাৎ অর্পার টেবিলের পাশে জানালায় কে যেনো ধাক্কা দিলো,জোরে জোরে শব্দ করতে লাগলো।অর্পা ভয়ে চিৎকার শুরু করলো। অর্পার চিৎকার শুনে বাবা-মা দৌড়ে অর্পার রুমে আসে। পরেরদিনের পরীক্ষাটা ভালো হয়নি। বোধহয় ফেল করবে।ঠিকই রেজাল্টে এক বিষয় ফেল আসে।খুব মন খারাপ।ছাদে এক কোনে চুপ করে বসে আছে।হঠাৎ সেইদিনের কথা...