Posts

সংকলন ১৩- শেষ বিকেলের কোকিলটা-আল মামুন কৌশিক

- এই যে মিস্টার। এভাবে হা করে কি দেখছেন? ধ্রুব চশমাটা কপাল থেকে নামিয়ে চোখে চাপিয়ে পিটি পিট করে তাকিয়ে দেখলো অপরিচিত কণ্ঠস্বরের মালিকিন কে। - জি আমাকে বলছেন? - হ্যা আমি আপনাকেই বলছি। ওভাবে পানির দিকে হা করে তাকিয়ে কি দেখছেন? দেখে তো মনে হয় চশমা ছাড়া কিছু দেখেন না। - না কিছু দেখছি না। ভাবছিলাম। আপনাকে ঠিক... কথা শেষ করার আগেই মেয়েটি বললো, - আমার নাম ফারিয়া। আমি কি আপনার সাথে বসে কিছু সময় গল্প করতে পারি? - জি বসুন। হতবুদ্ধি ভাবটা ধ্রুবর চেহারাটা থেকে সরে নিই। - আমার দিকে ওভাবে তাকিয়ে থাকবেন না। অস্বস্তি লাগে। এর আগে আমার মতো সুন্দরী কি দেখেননি নাকি? - না মানে... - শুনুন আমি ভদ্র ঘরের মেয়ে। একটু ঝামেলায় পড়েছি। সামান্য সাহায্য দরকার। ধ্রুব এসবের কিছুই বুঝতে পারছে না। আজকে ওর রুমমেট অনিক তার গার্লফ্রেন্ড নিয়ে এসেছে মেসে। তাই ধ্রুবকে বলেছে কিছুক্ষনের জন্য বাইরে থেকে ঘুরে আসতে। ধ্রুব বাসা থেকে বের হয়ে ধানমণ্ডি লেকে অযথাই বসে ছিলো। এখন না জানি কোন ঝামেলায় তাকে পড়তে হয়। - দেখুন খারাপ মেয়ে ভাববেন না। একটু হেল্প করুন প্লিজ। - আচ্ছা বলুন আমি কিভাবে সাহায্য করবো। আমার কাছে তো কোন টাকা নেই। - আ...

সংকলন ১২- তুমি আর নেই সে তুমি

সেইদিনগুলি কি ভাল ছিলনা,যেদিন এক আইসক্রিম দুজনে ভাগ করে খেতাম,একটা টাকা কেউ খরচ করলে তা খরচের খাতায় লিখে রাখতাম,মাস শেষে বেতন এনে সে আমার হাতেই দিত,সবজি কাটতে হয়নি কখনও একা,আমি কাটতে বসলেই সে এসে বসে পড়তো,গল্প করতে করতে দুজন কাজ শেষ করতাম। আমি কাপর ধুতে পারতামনা তাই সে ছুটির দিন নিজে কাপর ধুয়ে দিতো,চা খেতে খেতে টিভি দেখতাম দদুজন একসাথে।তখন রিকশার ঘন্টা ছিলো বিশ টাকা আমরা ছুটির দিন রিকশা ভাড়া করে ঘন্টার পর ঘন্টা বেড়াতাম,তখন কথা দিলে কথা রাখত সে। একবার কি এক কারনে চাকরিটা চলে গেল,আমি তার মনের অবস্থা দেখে বললাম,তোমাকে আর চাকরি করতে হবেনা,আমার গহনা তো এমনি পড়ে আছে তুমি ওগুলো বন্ধক দিয়ে টাকা আনো,বেবসা করো,পরে না হয় গহনা ছাড়িয়ে আনবে।সে তাই করলো।শুরু হলো অন্য এক জীবন,যে জীবন আমি চাইনি। লোকে বলে অভাব যখন দরজায় এসে দারায়, ভালবাসা নাকি জানালা দিয়ে পালায়,কই আমরা যখন হিসেব করে সংসার করেছি তখন তো আমাদের সংসার ভালবাসায় পরিপুর্ন ছিল,এখন যখন তার ব্যাংক একাউন্টের অভাব নেই এখন কেন ভালবাসাহীন সংসারে অসহায়, একাকি জীবন পাড় করছি? বেবসার শুরুটা ভাল ছিল আর সেটাই আমার কাল হয়েছে,তাকে নারির মোহ,দুনিয়ার মোহ গ্র...

সংকলন ১১- "আয়না" এবং "নিমধ্যমা"

লেখকঃ একুয়া রেজিয়া : ১ সারাদিন পর হানিফ সাহেব ঘরে ফিরে দেখলেন বাসায় কেউ নেই। বাসার দারোয়ান জানাল রুমকি, শুভ এবং তার মা একটা জন্মদিনের দাওয়াতে গেছেন। হানিফ সাহেব দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললেন। রিটায়ারমেন্টে যাবার পর থেকে বাসার অনেক খবরই তাকে দেওয়া হয় না। অথচ এখন তার অখণ্ড অবসর। সারাজীবন কাজের ব্যস্ততার জন্য ছেলেমেয়েদের সাথে খুব বেশি সখ্যতা হয়নি। ফলে এখন দূরত্বটা পর্বতাকৃতির হয়ে গেছে। মিসেস হানিফ কেন জানি আজকাল তার সব কথাতেই বিরক্ত হন। রুমকি রাতে একা ঘুমাতে ভয় পায়, তাই তিনি এখন গেস্ট রুমে ঘুমান এবং রুমকি তার মায়ের সাথে বেডরুমে ঘুমায়। শুভ পাশ করে খুব ভাল একটা চাকরিতে জয়েন করেছে। একটা মেয়েকে নাকি সে পছন্দও করে, তাকেই বিয়ে করবে বছরের শেষতক। একথা অবশ্য তাকে বাসার কেউ জানানোর প্রয়োজন মনে করেনি। তিনি রুমকির মা কে একদিন ফোনে কথা বলতে শুনেছিলেন। সেই থেকে জানেন। কাজ ছাড়া থাকতে ভাল লাগেনা হানিফ সাহেবের। রিটায়ারমেন্টে যাওয়াটা তার কাছে অভিশাপ বলে মনে হয়। অবশ্য ৩৫ বছর কাজ করার পর একটি প্রতিষ্ঠানকে দেবার মত তার কাছে আর কিছুই নেই। বাসার মানুষজনকে আজকাল খুব অচেনা মনে হয় তার। নিজেকে কে...

সংকলন ১০- "লেখিকার ভবঘুরে ভালবাসা"

লেখকঃ গোধূলি বিশ্বাস সীজন মহুয়া গল্প লিখতে ভালোবাসে। আগে গল্পের নায়কগুলোকে তৈরি করতে অনেক ভাবতে হত, এখন আর হয় না। মহুয়ার সব গল্পের নায়িকা সে নিজে, আগেও ছিল। কিন্তু নায়করা এখন আর টম ক্রুজ, লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও, হিউ জ্যাকম্যানের কোন চরিত্র দ্বারা প্রভাবিত হয় না। সব বদলে গেছে, বদলে গেছে মহুয়া, মহুয়ার গল্প ও মহুয়ার মন। দিনটি ছিল ভর্তির দিন। ঐ দিনই মহুয়া দেখেছিল অন্যরকম একজন লোককে। লম্বা, রুগ্ন-শুকনো গড়ন, বিষণ্ণ চেহারা, চোখে মোটা কালোফ্রেমের চশমা, উদ্ভ্রান্তের মত ঘুরছিলেন। লোকটিকে দেখেই রবিঠাকুরের “গল্পগুচ্ছ” বইয়ের “অতিথি” গল্পের তারাপদকে মনে পড়েছিল মহুয়ার। আবার মনে হচ্ছিল,ভীষণ বিষণ্ণ একজন মানুষ লোকটা। মহুয়া কখনো প্রেম করে নি। প্রেম-ভালোবাসা নিয়ে তাই অনেক জল্পনা-কল্পনা রয়েই গেছে। বাংলা সিনেমার মত ‘ভালোবাসা পবিত্র, ভালোবাসা স্বর্গ থেকে আসে’ টাইপ রিকশাওয়ালা ও চৌধুরীসাহেবের মেয়ের প্রেমের মত কল্পনা হয়ত নেই। কিন্তু গল্প-উপন্যাসের মত ‘হয়ত কিছু একটা হবে’-এটাই মহুয়ার প্রত্যাশা। তাই হয়ত অদ্ভুত ভবঘুরে স্বভাবের লোকটাকে ভালো লেগেছে। দু’বছরের বড় সেই সিনিয়রকে শুধু দূর থেকেই দেখে যায় মহুয়া। লোকটা গম্ভী...

সংকলন ৯- অসম প্রেম

পিচঢালা পথ পেরিয়ে আমাদের বহনকারী বাসটি দ্রুত গতিতে ছুটে চলছে। মাঝ দুপুর। খোলা জানালা দিয়ে বাতাস বইছে হুহু করে। মাসুদ মাথাটা আমার কাধের উপর রেখে ঘুমুচ্ছে। কখন যে ও ঘুমিয়ে পড়ল খেয়াল করেনি, ডুবে ছিলাম ভাবনার জগতে। ওর ছোট ছোট দাড়িতে খোচা পাচ্ছিলাম। মাসুদের দিকে তাকিয়ে মায়া হচ্ছে খুব। বুকের ভেতর কোথা হতে যে এত মায়া আসলো? বুঝিনা কেন এত ভালবাসি আমি ওরে! কত নির্ভরতায় ও ঘুমুচ্ছে আমার কাধে। বাতাসে ওর চুল গুলো উড়ছে। শিশুর মত পবিত্র লাগছে ওরে। আমার জন্য ওরে কত কষ্ট করতে হচ্ছে? আমার পরিবার ভীষণ আশ্চর্য হয়েছিল যখন তারা জানতে পারল তাদের পরিবারের সবচেয়ে চটপটে আর মেধাবী মেয়েটা কিনা মাসুদের মত বেকার একটা ছেলের প্রেমে পড়েছে। তাছাড়া ওদের তুলনায় আমাদের পরিবার বেশ ধনী বলা যায়। সুতারাং তারা আশ্চর্য হয়েই কেবল থেমে রইলনা। নানা রকম কুটচাল আর বাঁধার দেয়াল তুলে দিল দু’জনের মাঝে। কত ঝড় যে বইলো আমাদের ছোট জীবনের উপর ? মা আর বড় আপা আমার গায়ে হাত তুললো, নজর বন্দিও করেছিল। তবে মাসুদের প্রতি আমার তীর্ব ভালবাসা সব বাধাকে বালির বাধের মত ভাসিয়ে নিয়ে গেল। কিছুক্ষন আগে যখন আমরা পদ্মা নদীতে লঞ্চে পা...

সংকলন ৮- একটি ছেলে যার ছিল অনেক স্বপ্ন

একটি ছেলে যার ছিল অনেক স্বপ্ন। অনেকের সাথে বন্ধুত্ব করবে সে। এই কারনে তার ফেসবুক এ আইডি খোলা। তার নাম ছিল রাফা। সে স্কুল-এ খুব চুপচাপ থাকতো। স্কুলে ছিল তার অনেক বন্ধু। কিন্তু সবাই ছিল ছেলে। কোন মেয়ের সাথে তার বন্ধুত্ব হয়নি। ফেসবুক আইডি খুলেছে সে ২০০৯ সালে। তখন সে প্রতিদিন এ সাইবার ক্যাফ-এ গিয়ে ফেসবুক ব্যভার করতো। সে কখনো ভাবে নি যে তার আজ এই পরিস্থিতির সম্মুখিন হতে হবে। তখন তার ফেসবুক আইডি তে ও কোন মেয়ে বন্ধু ছিল না। ঈদের ছুটিতে বাড়ি যায় সে। জানতে পারে যে তার মামাতো ভাইয়ের ফেসবুক আইডি আছে। ভাইকে তার ফ্রেন্ড লিস্ট এ অ্যাড করল সে। তার ভাই তাকে পরিচয় করিয়ে দিলো তার অনেক বন্ধু-বান্ধব এর সাথে। সাথে তার জিএফ এর সাথেও। রাফা তার ভাই এর জিএফ কে ভাবি বলে ডাকতো FB তে ।  সামনাসামনি তাদের এখন দেখা হয় নি। রাফা অনেক দুস্টামি করতো তার ভাবির সাথে। হঠাৎ একদিন তার ভাবি তাকে বলল তোমার জিএফ নাই। সে সরাসরি উত্তর দিলো না। ওর ভাবি একজন এর প্রফাইল লিঙ্ক দিয়ে বলল তোমার মত আমার এই বান্ধবীটিও একা। রাফা তাকে ফ্রেন্ড রেকুয়েস্ট পাঠায়। মেয়েটি এক্সেপ্ট করে। তার নাম তানি। তাদের মধ্যে অনেক দিন কথা হয...

সংকলন ৭- নির্বোধ ভালবাসার গল্প: কয়জনে পারে?

ছেলেটির নাম দিলাম আজহার, আমরা ডাকব আজু বলে মেয়েটি নবনী, মায়ামায়া চেহারা আর সি্নগ্ধ দৃষ্টি দিয়ে সহজেই যেকারো নজর কাড়ে। এবং খুবই বুদ্ধিমতি। আজু ছিল আমাদের স্কুলের ফার্স্ট বয়। ক্লাস ওয়ান থেকে সিক্স পর্যন্ত। ক্লাসের অন্য যে ছেলেগুলো ভাল রেজালট করতে চাইত, তারা সবাই সবসময় সেকেন্ড হতে চাইত, কারণ আজুর অস্তিত্বের কারণে ফার্স্ট হওয়াটা সম্ভব ছিলনা। ক্লাস ফোর পর্যন্ত আইডিয়াল স্কুলে ছেলে-মেয়ে একসাথে ক্লাস ছিল। "তোরা ছেলে কেন?" অথবা "তোরা কেন মেয়ে" এই লেভেলের ঝগড়া নিয়েই ছেলেমেয়েদের সম্পর্কটা তৈরী হয়ে থাকে তখন।  সেটা ভাল না খারাপ, সে বিবেচনা করার জো নেই। ক্লাস ফাইভে এসে ালাদা করে দেয়া হলো, আমরা ছেলেরা দুপুর বারোটায় স্কুলে যাই,মেয়েরা সকালে। 1140এর দিকে ছুটি হয় ওদের। ধীরে ধীরে 1140 এর আগের সময়টাকে কুয়াশাঘেরা প্রাচীরের মতো লাগে সব ছেলের কাছে, সাথে সাথে মেয়েদেরকেও।  হয়ত, অনেকে "ওরা মেয়ে কেন" সেইসব প্রশ্নের জবাবও আঁচ করতে পারে। মেয়েরাও হয়ত আঁচ করা শুরু করে। ক্লাস ফাইভ, সিক্স, সেভেন যায়। ক্লাস এইটে এসে আবার বৃত্তির কোচিংটা যখন হয়, তখন ছেলেমেয়ে একশিফটে ক্লাস শুরু করে। আজুর গল্...